আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্ত জানায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই আইসিসির সাবেক বিচারক ও দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর সম্পর্কেও নতুন টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির হাতে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার ক্ষমতা মেনে নেবে না। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে আদালতটির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেন এবং সেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, বিমা ও সফটওয়্যার সেবার ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের তদন্ত, মামলা ও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের বিচার করে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতটির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির অতীত তদন্তেরও বিরোধিতা করেছিল ওয়াশিংটন।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সীমিত কিছু কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। টেলিযোগাযোগ ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট লেনদেন, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু লেনদেনের জন্য ছাড় রাখা হয়েছে।
২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগের বিচারক ছিলেন নাভি পিল্লাই। নোবেল কমিটি তাঁর পুরস্কার ঘোষণার সময় আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় আইসিসি আগেই বিকল্প সফটওয়্যার ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল।

